আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার পাশাপাশি থামছে না কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা। এসব উদ্বেগ কাটিয়ে জননরিাপত্তা আরো নিশ্চিত করতে পুলিশকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে এমনটি জানিয়েছেন বাহিনীটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বর্তমান সরকারের বয়স চার মাস অতিবাহিত হলেও অগ্রাধকিার তালিকায় থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘স্বস্তিকর’ র্পযায়ে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের ভেতর ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য পুলিশকে কর্মকৌশল তৈরিতে নিদেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, জননরিাপত্তা নিশ্চিত এবং পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে যাচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ জন্য ৭টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাজনতি যেকোনো পরস্থিতিতে পদক্ষপে গ্রহণ করতে কিছু র্কমকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মানুষের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করা যায়।

পুলিশ সূত্র বলছে, কমিটিগুলোকে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল প্রণয়নে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননরিাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং পুলিশের সেবা বৃদ্ধি করতে কর্মকৌশল প্রণয়নে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নেতৃত্বে আছেন। 

পুলিশ সদর দপ্তর দেশের বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিতকরণে (অপরাধের ধরন, গ্যাং কালচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ) তথা সার্বিক অপরাধ দমন ও জননরিাপত্তা নিশ্চিকরণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। 

রাজনৈতিক সহিংসতা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস এবং বৃহৎ পরিসরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতির অবনতি মোকাবিলায় আগাম সর্তকীকরণ ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তথা অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অনলাইন জুয়া এবং আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের রূপরখো প্রণয়ন করতে ৭ সদস্যের  একটি কমিটি করা হয়ছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সিআইডির একজন ডিআইজিকে। মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অবধৈ অস্ত্র উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সুপারিশ প্রদানে পুলিশ সদর দপ্তররে একজন ডিআইজিকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে অপর একটি কমিটি। 

জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে থানা পর্যায়ের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটিাল প্রযুক্তির ব্যবহার (র্স্মাট ট্র্যাকিং, বডি র্ওন, অনলাইন জিডি, ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটর্ফম) সম্প্রসারণরে উপায় নির্ধারণে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজিকে প্রধান করে ৬ সদস্যের আরকেটি কমিটি গঠন হয়েছে।

পুলিশের অপর একটি সূত্র বলছে, ‘মব কালচার’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতাও অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষরে পাশাপাশি দলবদ্ধ আক্রমণের শিকার হচ্ছে পুলিশ। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন  এলাকায় আন্ডারওর্য়াল্ডের অপরাধীদের অপতৎপরতা নতুন করে দেখা যাচ্ছ। নিষিদ্ধি ঘোষিত বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সক্রিয় হওয়ার খবরও আসছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া এ এইচ এম শাহাদত হোসেন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে নানামুখী প্রচষ্টো অব্যাহত রয়ছে। অপরাধ দমনে কিছু কর্মকৌশল প্রণয়নরে কাজ চলমান। আইনশৃঙ্খলায় ব্যত্যয় ঘটালে সে যেই হোক; কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কমিটিগুলো ইতোমধ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, সক্রিয় অপরাধী গ্রুপগুলোকে আইনের আওতায় আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকৌশল তৈরি হওয়ার পর এ কাজ আরো বেগবান হবে এমনটি আশা করা হচ্ছে। 

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকৌশল নির্ধারণে পুলিশের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের উদ্যোগকে প্রো-একটিভ পদক্ষপে হিসেবে মনে করছি। ঢাকাসহ দেশের যেসব এলাকা অধিক মাত্রায় অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়েছে, সেখানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।”

চলতি বছরের ফেব্রেুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকাররে অন্যতম প্রধান অগ্রাধকিাররে তালিকায় আছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। সে অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহনী তৎপরতা শুরু করেছে। 

মানবাধকিার সংস্কৃতি ফাউন্ডশেনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মে মাসে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এপ্রিলে এ ধরনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২১। তার আগের মাসে ছিল ১৯ জন। ফেব্রুয়ারিতে ১৮ এবং জানুয়ারিতে ২১ জন নিহত হন।

সূত্র বলছে, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে পুলিশের ওপর। আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গেলে হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।