রাজধানীর উত্তরায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে দুই ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি প্রাইভেট কার ও দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় মো. রাসেলের (৪০) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশ বলছে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালত বুধবার শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি নিয়ে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির লালবাগ জোনের এসআই দেবকুমার আচার্য্য রিমান্ড আবেদনে জানান, গ্রেপ্তার রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ছিনতাই হওয়া সাদা রঙের প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির ভেতর থেকে ‘ইউরো স্ট্যান্ডার্ড’ লেখা এক জোড়া হাতকড়া, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, দুটি স্টিলের ব্যাটন, লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ২০০ টাকা এবং একটি বাটন মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াজ ও তাঁর অংশীদার আজমির হোসেন আকিজ গ্রুপের ডিলারশিপ ব্যবসার জন্য উত্তরা থেকে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে শেরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। রাত আটটার দিকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের সেতুর ওপর পৌঁছালে ডিবি পরিচয়ে দুটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলে আসা পাঁচ–ছয়জন তাঁদের পথরোধ করেন।
এরপর ডাকাতেরা ডিবি পরিচয়ে জোর করে তাঁদের গাড়িতে উঠে দুই ব্যবসায়ীর চোখমুখ বেঁধে মারধর করে। পরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে নগদ টাকা, প্রাইভেট কার ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। রাত একটার দিকে ভুক্তভোগীদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ৩০০ ফুট সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ৩ আগস্ট ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রিয়াজ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৯২ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা করেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তরা এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবকুমার আচার্য্য প্রথম আলোকে বলেন, রাসেল একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও হালুয়াঘাট এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।







