ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও ধরপাকড়ের পর আন্দোলন আরও বেগ পায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুব-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নেন। তারা পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। পরে সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী আহত হন ও শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। একই দিন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নামেন।
বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নামেন মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীরা/ ছবি: এএফপি
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের বিস্তার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কলকাতায় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একাংশও যোগ দেন। একই দিনে হায়দরাবাদ, ইন্দোর, দেরাদুন ও লাদাখে বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বাইরে লন্ডন ও আরও কয়েকটি শহরে ভারতীয় শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলন আরও নতুন শহরে পৌঁছে যায়। পাটনায় শিক্ষার্থীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। বেঙ্গালুরুতে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ করলে কয়েকজনকে আটক করা হয়। একই দিনে মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও সুরাটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়।
বুধবার (২২ জুলাই) বিহারের রাজধানী পাটনায় প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ/ ছবি: এএফপি
এদিকে, আন্দোলনের জেরে বুধবার (২২ জুলাই) ভারতের সংসদের অধিবেশনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলগুলো ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করলে লোকসভার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলেন।
আন্দোলনের সূচনা হয় জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এর পরিধি বেড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনের উদ্যোক্তারা বলছেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ। অন্যদিকে সরকার বলছে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ও আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি
এসএএইচ








