সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ ও ‘নৃশংসতার’ অভিযোগে দায়ের করা একাধিক জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেন।
শুনানিতে বিক্ষোভকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্মম লাঠিচার্জ চালায়। এ সময় নারী বিক্ষোভকারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে, তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়েছে এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এছাড়া দায়িত্ব পালনকারী অনেক পুলিশ সদস্যের পোশাকে পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না বলেও অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সমর্থনে ১১০টি ভিডিও রয়েছে বলেও আদালতকে জানান আবেদনকারীদের আইনজীবীরা।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. রাজু দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন না; তারা পাথর নিক্ষেপসহ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি আরও বলেন, এসব জনস্বার্থ মামলা মূলত ‘প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে’ করা হয়েছে।
তবে আদালত এ বক্তব্যে প্রশ্ন তোলে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কীভাবে আপনি বলতে পারেন এটি শুধু প্রচার পাওয়ার জন্য করা মামলা?
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, যদি এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি ভুক্তভোগীর আলাদাভাবে থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করার প্রত্যাশা করা যৌক্তিক নয়। আদালত বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন এবং এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।
এদিকে আবেদনকারীদের আরেক আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বশেষ বিকল্প হওয়া উচিত। এছাড়া সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য হিসেবে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম








