দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি অভিযান এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন বামপন্থি ছাত্র সংগঠন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগে প্রতীকী অনশন, বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা ডাফলি বাজিয়ে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতিবাদ জানান।

এদিকে, দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালানো হয়েছে এবং আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, সরকারের উচিত ছিল পুলিশি ব্যবস্থা না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা।

শমীক লাহিড়ী বলেন, সোনম ওয়াংচুক আগে বিজেপির বিভিন্ন নীতির সমর্থক ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না; বরং তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরুর পরই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন কোনো সংলাপ না করে পরে পুলিশি হস্তক্ষেপকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গ তুলে শমীক লাহিড়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তুলনা করে তিনি বলেন, রাজ্যের দুর্নীতিতে একটি রাজ্যের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিট-সংক্রান্ত অনিয়মে দেশের লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে শমীক লাহিড়ী বলেন, এসব অভিযোগের আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডিডি/এমএসএম