ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে অনশনে অংশ নেওয়া জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলিকে আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় শনিবার তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দানিশ আলি টানা সাত দিন ধরে অনশন করছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তার রক্তে শর্করার মাত্রা নেমে এসেছে বিপজ্জনক অবস্থায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, আরও কয়েকজন অনশনকারী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তারা এখনো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে ২৮ জুন থেকে অনশনে যোগ দেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এরপর থেকেই আন্দোলনটি দেশজুড়ে আরও বেশি আলোচনায় আসে। আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে। তার দাবি, কয়েক দিনের অনশনে ওয়াংচুকের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।








