দুধ মহান আল্লাহর এক অপার নিয়ামত ও পুষ্টিগুণে অনন্য এক তরল পানীয়। সুস্বাস্থ্যের জন্য দুধের বিকল্প মেলা ভার। বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামেও দুধের অনন্য মর্যাদা ও উপকারিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) নিজেও দুধ পান করতে ভীষণ পছন্দ করতেন। নবীজি (সা.) দুধ এতটাই পছন্দ করতেন যে কেউ উপহার দিলে তিনি তা কখনো ফিরিয়ে দিতেন না। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি বস্তু ফিরিয়ে দেওয়া যায় না—বালিশ, সুগন্ধি তেল বা সুগন্ধি দ্রব্য এবং দুধ।’ (জামে তিরমিজি: ২৭৯০)

পবিত্র কোরআনে দুধের বর্ণনা: পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা গবাদিপশুর দুধকে মানুষের জন্য এক শিক্ষণীয় নিদর্শন ও চমৎকার পানীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সুরা মুমিনুনের ২১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর গবাদিপশুর ভেতরে তোমাদের জন্য আছে অবশ্যই শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের পেটে যা আছে তা থেকে আমি তোমাদের পান করাই (দুধ) আর তাতে তোমাদের জন্য আছে বহুবিধ উপকার।’

সুরা নাহলের ৬৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমূহের মধ্য থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ; যা পানকারীদের জন্য উপাদেয়।’

দুধপানের দোয়া: দুধ পান করার সময় উম্মতকে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ দুধ পান করে, সে যেন এই দোয়া পাঠ করে—‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়া জিদনা মিনহু।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, এই দুধে আমাদের বরকত দিন এবং এর চেয়ে বেশি আমাদের দান করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৩২, জামে তিরমিজি)