পরীক্ষার দিনটি শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের দিন নয়, এটি সময় ব্যবস্থাপনা, মানসিক স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসেরও পরীক্ষা। বছরের পর বছর প্রস্তুতির পর এই একটি দিনের ছোট্ট অসাবধানতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। আবার কিছু সাধারণ অভ্যাস পুরো দিনটিকে সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।

এইচএসসি হোক বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-সকালের কয়েক ঘণ্টা কীভাবে কাটাচ্ছেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে আপনার পারফরম্যান্স। তাই তাড়াহুড়া বা অযথা দুশ্চিন্তা নয়, পরিকল্পিতভাবে দিনটি শুরু করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সময়মতো ঘুম থেকে উঠুন

পরীক্ষার দিন অ্যালার্মের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সম্ভব হলে দুটি অ্যালার্ম দিন। খুব দেরি করে ওঠা যেমন সমস্যার, তেমনি অস্বাভাবিক ভোরে উঠে ক্লান্ত হয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে ঘুম থেকে উঠলে শরীর ও মন দুটোই প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।

আরও পড়ুন

পরীক্ষাকেন্দ্রে যেসব ভুল বারবার করে শিক্ষার্থীরা

দিনের শুরুটা শান্তভাবে করুন

ঘুম থেকে উঠেই বই খুলে বসা বা বন্ধুদের ফোন করে কী পড়েছে জানতে চাওয়া অনেকের অভ্যাস। কিন্তু এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। বরং মুখ ধুয়ে, কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বা কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখুন।

হালকা ও পুষ্টিকর নাশতা করুন

খালি পেটে পরীক্ষা দিতে যাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। আবার অতিরিক্ত ভারী খাবারও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। রুটি, ডিম, কলা, ওটস, দুধ বা হালকা খিচুড়ির মতো সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আরেকবার দেখে নিন

  • প্রবেশপত্র আছে কি না
  • নিবন্ধনপত্র বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আছে কি না
  • প্রয়োজনীয় কলম, পেন্সিল, ইরেজার, স্কেল, ক্যালকুলেটর (যদি অনুমোদিত হয়) নিয়েছেন কি না
  • স্বচ্ছ পানির বোতল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে আছে কি না

পোশাক নির্বাচন করুন আরামকে গুরুত্ব দিয়ে

খুব নতুন বা অস্বস্তিকর পোশাক এড়িয়ে চলুন। আবহাওয়া অনুযায়ী হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন। এমন জুতা পরুন যাতে দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা না হয়।

সময় হাতে রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশে বের হন

ঢাকার মতো বড় শহরে যানজট, আবার অন্য জায়গায় সড়কের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি-সবই ঘটতে পারে। তাই পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন। আগে পৌঁছালে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়।

শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করবেন না

পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে নতুন কোনো অধ্যায় বা কঠিন প্রশ্ন মুখস্থ করার চেষ্টা অনেকেই করেন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ার বদলে উল্টো মনে হতে পারে, অনেক কিছুই জানা হয়নি। যা পড়েছেন, সেটির ওপরই ভরসা রাখুন।

অন্যের সঙ্গে তুলনা নয়

বন্ধু যদি বলে, ‘আমি সব শেষ করেছি’, আর আপনি ভাবেন, ‘আমার তো কিছুই হয়নি’-তাহলে নিজের মনোবলই নষ্ট হবে। মনে রাখবেন, প্রত্যেকের প্রস্তুতির ধরন আলাদা। অন্যের কথায় নিজের আত্মবিশ্বাস হারানোর কোনো মানে নেই।

ইতিবাচক চিন্তা করুন

নিজেকে বারবার বলুন, ‘আমি যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছি, সেটাই সর্বোচ্চ চেষ্টা।’ পরীক্ষার আগে নেতিবাচক চিন্তা করলে মনোযোগ কমে যায়। বরং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আত্মবিশ্বাস অনেক সময় কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতেও সাহায্য করে।

পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে মন শান্ত রাখুন

কেন্দ্রে পৌঁছে প্রশ্ন নিয়ে অযথা আলোচনা না করে কয়েক মিনিট চুপচাপ বসুন। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, পানি পান করুন এবং মনে মনে সময় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করুন। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথমে পুরো প্রশ্নটি পড়ে নিন, তারপর যে প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে ভালো জানেন, সেটি দিয়ে শুরু করুন।

আরও পড়ুন

এইচএসসি পরীক্ষার আগের রাতে মানসিক চাপ কমাতে যা করবেন

কিছু অতিরিক্ত পরামর্শ

পরীক্ষার আগের রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন।
মোবাইল ফোনের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন।
কোনো গুজব বা ভুল তথ্য বিশ্বাস করবেন না।
অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে জানান।
পরীক্ষা শেষে উত্তর মিলিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে পরবর্তী বিষয়ের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিন।

একটি পরীক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে, কিন্তু সেটিই জীবনের শেষ কথা নয়। তাই পরীক্ষার দিন নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করুন, তবে অযথা চাপ নিয়ে নয়। শান্ত মন, সঠিক পরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস-এই তিনটি বিষয়ই আপনাকে ভালো পরীক্ষা দিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।

জেএস/