জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামপুর ডাকবাংলোতে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যোগদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত পরামর্শসভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন উপজেলার মলমগঞ্জ মডেল কলেজে একটি সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি সুলতান মাহমুদ। একপর্যায়ে এমপিকন্যা বিন্তীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমত ও পৌর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসানের সঙ্গে অপরপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর সন্ধ্যায় সভা চলাকালে বিন্তির সমর্থকরা নুরুল ইসলামে গাড়ি ভেবে প্রথমে সুলতান মাহমুদ বাবু এমপির গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে সেখানে থাকা নুরুল ইসলামের গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হোক।
এদিকে নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এমপি সুলতান মাহমুদের বড় মেয়ে নাফিসা শাফিস বিন্তী দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে একক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বে থাকার সুবাদে ঠিকাদারি কাজ, টিআর, কাবিখা, খাল খননসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিন্তী। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মনে দীর্ঘদিন অসন্তোষ বিরাজ করছিল। তার জেরে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিন্তী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমপি সুলতান মাহমুদ বলেন, কে বা কারা আমার গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। আমি ওসিকে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








