উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুওহুজি কাইনেরুগাবা দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি জানান, দেশের বৃহত্তম স্বাধীন দৈনিক ডেইলি মনিটর এবং বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি উগান্ডা তার অনুমতি ছাড়া পুনরায় সম্প্রচার বা প্রকাশ করতে পারবে না।

তিনি লিখেছেন, উগান্ডায় আমি স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি না। এখন থেকে উগান্ডা সম্পর্কে সব নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের আগে আমার দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে তার বাবা ও প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি তাকে যেকোনো গণমাধ্যম বন্ধ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।

ডেইলি মনিটর জানিয়েছে, রাজধানী কাম্পালার নামুওঙ্গোতে নেশন মিডিয়া গ্রুপ (এনএমজি) উগান্ডার প্রধান কার্যালয় এবং সেরেনা হোটেল অফিসের বাইরে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউকে ভবনে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

এনএমজির মালিকানাধীন এনটিভি উগান্ডা, স্পার্ক টিভি এবং তাদের অন্যান্য টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারও রোববার দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মুওহুজি কাইনেরুগাবাকে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির ছেলে কাইনেরুগাবা বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জন্যও পরিচিত।

এর আগেও উগান্ডা সরকার ২০১৩ সালে ডেইলি মনিটর ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া ২০০৭ সালে সম্প্রচার শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগে এনটিভি উগান্ডা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (ইউপিডিএফ), উগান্ডা পুলিশ এবং উগান্ডা কমিউনিকেশনস কমিশন (ইউসিসি) এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

উগান্ডার ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রডকাস্টার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংগঠনটি এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এটি দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা এবং সংবিধানে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম