ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিখ্যাত রেনে লালিক জাদুঘরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ জুলাই) ভোরে জাদুঘরটি থেকে প্রায় ৪ মিলিয়ন ইউরো (৪.৫৭ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের গয়না চুরি হয়েছে।
সোমবার (৬ জুুলাই) ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার ভোরে বেশ কয়েকজন মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী জাদুঘরের একটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা প্রদর্শনী কক্ষে থাকা ছয়টি কাঁচের ডিসপ্লে কেস ভেঙে অত্যন্ত মূল্যবান ২০ পিস ক্রিস্টাল গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতিতে জানায়, “খবর পেয়ে ফরাসি পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য আগামী কয়েকদিন জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রান্সের উইনজেন-সুর-মোডারে অবস্থিত রেনে লালিক জাদুঘরটি কাঁচ ও গয়নার শিল্পের জন্য পরিচিত।
উইঙ্গেন-সুর-মডার অঞ্চলের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান ডরস্নার স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, চোর চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে এসেছিল। ভেতরে ঢোকার পর তারা অন্য কোথাও সময় নষ্ট না করে সরাসরি গয়না সংগ্রহের কক্ষটির দিকেই এগিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, চুরির সময় জাদুঘরের অ্যালার্ম সিস্টেমটি সঠিকভাবে সচল হলেও, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সংস্থাটি পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
বর্তমানে পুলিশ জাদুঘরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত শাখাকে দেওয়া হয়েছে।
লে প্যারিসিয়ান জানিয়েছে, এর আগে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর থেকে প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ঐতিহাসিক রত্ন চুরির একটি বড় ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর এই লালিক জাদুঘরটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় রেখে ‘বিশেষ নজরদারিতে’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু কঠোর নজরদারির মধ্যেও আবারো এমন চুরির ঘটনায় দেশটিতে জাদুঘরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।








