বর্তমান সময়ের সিনেমা নির্মাণের ধরন এতটাই বদলে গেছে যে, এর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া কঠিন, এমনটাই জানিয়েছেন বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনী। তাই এখন আর চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেন না তিনি।

সম্প্রতি জুম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হেমা মালিনী বলেন, “সেটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সময়। আমি বলব, ওটাই ছিল চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণযুগ। সেই সময়ের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তখন অসংখ্য সুন্দর সিনেমা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নারীপ্রধান গল্পের সিনেমা। ‘সীতা অউর গীতা’র মতো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। আমার প্রথম সিনেমা ‘সপ্নো কা সৌদাগর’, ‘খুশবু’সহ আরো অনেক সিনেমায় কাজ করেছি। এখন ফিরে তাকালে দেখি, প্রায় ২০০টি সিনেমায় অভিনয় করেছি। বেশির ভাগ প্রযোজকই তাদের পরের সিনেমাতেও আমাকে নিয়েছেন। তখন প্রায় প্রতিটি সিনেমায় পাঁচ-ছয়টি গান থাকত, আর জনপ্রিয় গান থাকা ছিল প্রযোজকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, “এখন সিনেমা তৈরির ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন এখন আর সিনেমায় কাজ করি না। কিন্তু আজকের দিনে যেভাবে সিনেমা তৈরি হয়, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমার জন্য খুবই কঠিন।”

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হেমা মালিনী ১৯৬৮ সালে ‘সপ্নো কা সৌদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। পরে ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘সত্তে পে সত্তা’ ও ‘বাগবান’-এর মতো একাধিক সফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ‘ড্রিম গার্ল’ হিসেবে খ্যাতি পান।

সবশেষ ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শিমলা মির্চি’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে। রমেশ সিপ্পি পরিচালিত সিনেমায় তার সঙ্গে অভিনয় করেন রাকুল প্রীত সিং ও রাজকুমার রাও। তবে মুক্তির পর সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হেমা মালিনী। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন পরিচিত নেতা। ২০০৩ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। এরপর ২০১৪ সালে উত্তর প্রদেশের মথুরা আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন। ২০১৯ সালে আসনটি ধরে রাখার পর ২০২৪ সালেও পুনর্নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে মথুরার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস