মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে রান্নার গ্যাস এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে এর দাম এবং পরিবহণ খরচ কমায় বাংলাদেশেও কমেছে। ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। জুনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। একইসময়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা ছিল। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, নতুন দাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

বিইআরসি জানায়, সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা। জুনে বেসরকারি কোম্পানিগুলো যে দামে এলপিজি আমদানি করেছে তা হিসাব করে জুলাই মাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে আগামী মাসে দাম আরও কমবে।

জানা গেছে, জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিইআরসি এ দাম সমন্বয় করেছে। এ মাসে প্রোপেনের সিপি প্রতি টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের ৬০০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে দুই গ্যাসের গড় সিপি হয়েছে ৫৯৩ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি এলপিজি আমদানিতে প্রতি টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৮ পয়সা বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত জ্বালানি তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমছে। দামের পতন অব্যাহত থাকলে আগামী মাসে দাম আরও কমার কথা এলপিজির।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম আকাশচুম্বি হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়। তবে দুই মাস ধরে দাম কমতে শুরু করেছে।