ফুটবলের রঙিন ময়দানে বন্ধুত্ব আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক অসাধারণ গল্প লিখতে চলেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে আজ ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিলিয়ান এমবাপে ও আশরাফ হাকিমি। একসময় প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) জার্সিতে একসাথে লড়াই করা এই দুই তারকা এখন হয়ে উঠেছেন শত্রু। বন্ধুত্বের সুতোয় বাঁধা সম্পর্ক এবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে সবুজ মাঠের লড়াইয়ে।
এমবাপে ফ্রান্সের অধিনায়ক ও বিশ্ব ফুটবলের সুপারস্টার। অন্যদিকে হাকিমি মরক্কোর অধিনায়ক ও দলের প্রাণভোমরা। পিএসজিতে একসাথে খেলার সময় তারা শুধু সতীর্থ ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন অবিচ্ছেদ্য বন্ধু। একই বয়সী দুজনের মধ্যে গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন।
মাঠের বাইরে ছুটি কাটানো, একে অপরের দেশে ঘুরে বেড়ানো; সবকিছুতেই ছিল তাদের উপস্থিতি। এমবাপে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছেন, ‘মরক্কোর সাথে খেলার কথা শুনে মনে হয় হাকিমি ইতিমধ্যে আমাকে মেসেজ দিয়েছে!’ আর হাকিমি জানিয়েছেন, ‘মাঠে বন্ধুত্ব থাকবে না, শুধু প্রতিযোগিতা।’
এই ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ। ফ্রান্স টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট, এমবাপের নেতৃত্বে তারা অপরাজেয় গতিতে ছুটে চলছে। অন্যদিকে মরক্কো ২০২২-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়। সেবার তারা সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াই করেছিল। এবার কোয়ার্টারফাইনালে হাকিমির নেতৃত্বে আটলাস লায়ন্সরা চমক দেখাতে প্রস্তুত।
ফুটবলের এমন ম্যাচগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, খেলা শুধু ৯০ মিনিটের নয়। এখানে আবেগ, বন্ধুত্ব, জাতীয় গর্ব সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এমবাপে-হাকিমির লড়াইয়ে জয়-পরাজয় যাই হোক, তাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে; এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। তবে মাঠে কে জিতবে? ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা নাকি মরক্কোর দুর্দান্ত ফর্ম? উত্তর মিলবে ম্যাচের শেষ বাঁশিতে।
কিলিয়ান এমবাপে ফুটবলের সর্বকালের সেরা তরুণ তারকাদের একজন। ২০১৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ফাইনালে গোল করে বিশ্বসেরা প্রমাণ করেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদে খেলছেন, গতিতে অপ্রতিরোধ্য এই ফরাসি সুপারস্টার।
আশরাফ হাকিমি পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। তার গতি, আক্রমণাত্মক খেলা ও ডিফেন্সিভ দক্ষতা অসাধারণ।
আরআই/আইএইচএস/








