সুরের আকাশের এক অম্লান নক্ষত্র এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমাদের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। মায়ের প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমারের নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল ‘কিশোর’। মায়ের সেই স্বপ্নকে ধারণ করেই ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে সংগীতে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করলেও সুরের ভুবনই হয়ে ওঠে তার আসল ঠিকানা।

১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে অচিনপুরের রাজকুমারী নেই গানের মাধ্যমে তার নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসাবে অভিষেক ঘটে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চার দশকেরও বেশি তিনি উপহার দিয়েছেন হাজারো কালজয়ী গান। তার গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ কিংবা ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’-এর মতো গানগুলো আজও বাঙালির সুখ-দুঃখের চিরন্তন সঙ্গী।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য এন্ড্রু কিশোর রেকর্ডসংখ্যক আটবার ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে।

দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যানসারে (নন-হজকিন লিম্ফোমা) আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ২০২০ সালের জুনে তিনি তার প্রিয় জন্মভূমি রাজশাহীতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ৬ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এন্ড্রু কিশোর আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার দরদি কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো যুগ যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। সুরের এই মহানায়কের মৃত্যু দিবসে তার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।