বরগুনার বেতাগী পৌরশহরে গভীর রাতে সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযান চালিয়ে ঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। পাশাপাশি দুজন নির্মাণ শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে বেতাগী পৌরশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্রি এলাকায় একটি খাস জমি দখল করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খান। পরে রাতেই দুইটি টিনশেড দোকান ঘর নির্মাণ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর মো. নেছার উদ্দিন বেতাগী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁর অত্যাচারে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সবশেষ তিনি বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেন।

বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক বলেন, ‘সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এই জমি খালি পড়ে ছিল। এই সুযোগে বিএনপি নেতা অবৈধভাবে দুটি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। দলের পরিচয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।’

বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির বলেন, ‘যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘পৌরসভার মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে যারা ঘর নির্মাণ করেছে, তারা আইন অমান্য করেছে। জামাল ও রুবেল নামের দুজন নির্মাণ শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’