স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন হাজারো কণ্ঠের গর্জন। শেষ মিনিটে বক্সের ভেতর একজন ফরোয়ার্ড পড়ে গেলেন। মুহূর্তেই দুই দলের খেলোয়াড় ছুটে গেলেন রেফারির দিকে। সবাই অপেক্ষা করছে একটি সিদ্ধান্তের। পেনালটি, নাকি প্লে অন? মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডেই বদলে যেতে পারে একটি ম্যাচ, একটি দেশের স্বপ্ন, এমনকি বিশ্বকাপের ইতিহাসও। এমন অসীম চাপের মধ্যেও যিনি ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেন, তিনি রেফারি। খেলোয়াড়দের মতো আলোচনায় না থাকলেও বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন এবং দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোর একটি তার কাঁধেই।

বিশ্বকাপে রেফারি হওয়া কোনো সৌভাগ্যের বিষয় নয়; এটি বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পুরস্কার। স্থানীয় লিগ থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ-ধাপে ধাপে নিজেকে প্রমাণ করে তবেই একজন রেফারি ফিফার নজরে আসেন। এরপর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। শারীরিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি, খেলার আইন সম্পর্কে নিখুঁত জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা, এমনকি চাপের মুহূর্তে মানসিক স্থিরতাও মূল্যায়ন করা হয়। অনেকের জন্য এই যাত্রা বিশ বছরেরও বেশি দীর্ঘ।

বিশ্বকাপে নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের শেখা থেমে থাকে না। ফিফার বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রেফারিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। মাঠের সম্ভাব্য জটিল পরিস্থিতি নিয়ে মহড়া দেন। কোন পরিস্থিতিতে ভিএআরের সহায়তা নিতে হবে, কখন দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে হবে, আবার কখন ধৈর্য ধরে পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে হবে-এসব নিয়েও চলে নিবিড় প্রস্তুতি। কারণ একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু একটি ম্যাচ নয়, কখনো কখনো একটি জাতির দীর্ঘদিনের স্বপ্নও ভেঙে দিতে পারে। মজার বিষয় হলো, একজন রেফারি একটি ম্যাচে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ান। অর্থাৎ অনেক মিডফিল্ডারের মতোই তাকে পুরো মাঠ চষে বেড়াতে হয়। খেলোয়াড়দের মতো তাদেরও নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয়। সামান্য ঘাটতিও বিশ্বকাপের মতো আসর থেকে ছিটকে দিতে পারে। তাই শারীরিক প্রস্তুতির দিক থেকে তারা কোনো অংশেই পেশাদার ফুটবলারদের চেয়ে কম নন।