গোসলের পর শরীর মুছতে আমরা সাধারণত তোয়ালে ব্যবহার করি। তবে এখনো অনেকের কাছে সুতির গামছাই সবচেয়ে ভরসার। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় গামছার ব্যবহার আজও জনপ্রিয়। কিন্তু ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী- গামছা নাকি তোয়ালে? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উত্তরটি অনেককেই অবাক করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া -এর গবেষকেরা আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যবহৃত কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ বাথ টাওয়েল বা তোয়ালে মূলত মোটা টেরি ক্লথ) বা পলেয়েস্টার মিশ্রিত সুতা দিয়ে তৈরি হয়। এর ঘন বুনন প্রচুর পানি শোষণ করলেও সহজে শুকায় না। ফলে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকলে এতে ই. কোলাই এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাস-এর মতো ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক দ্রুত জন্মাতে পারে।

কেন এগিয়ে গামছা?

দেশি গামছা সাধারণত শতভাগ সুতির সুতা দিয়ে তৈরি হয়। এর বুনন পাতলা হওয়ায় বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দ্রুত শুকানোর কারণে গামছায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মানোর ঝুঁকি তোয়ালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

ত্বকের জন্যও বেশি উপকারী

আমাদের ত্বক প্রতিদিনই মৃত কোষ ঝরায়। নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছলে আরাম লাগলেও অনেক সময় মৃত কোষ পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না।

অন্যদিকে, গামছার হালকা খসখসে বুনন প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ, ঘাম ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বকে রক্তসঞ্চালনও কিছুটা বাড়তে পারে।

ব্রণ ও র‍্যাশের ঝুঁকিও কমাতে পারে

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ব্রণ, ঘামাচি বা ত্বকে র‍্যাশ হওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য প্রতিদিন পরিষ্কার ও শুকনো গামছা ব্যবহার করা নিরাপদ হতে পারে।

দীর্ঘদিন ব্যবহৃত স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে মুখ বা শরীরে ব্যবহার করলে তাতে থাকা জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে গামছা প্রতিদিন ধোয়া এবং রোদে শুকানো অনেক সহজ।

আর্দ্র আবহাওয়ায় কেন বেশি কার্যকর?

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, সেখানে দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন পাতলা সুতির কাপড় ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ ভেজা কাপড় যত বেশি সময় আর্দ্র থাকে, জীবাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তত বাড়ে। বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় তাই গামছা একটি কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।

আরও পড়ুন

প্রতিদিন ৫ মিনিটের যত্নে ফিরবে নখের সৌন্দর্য

গামছা বা তোয়ালে-যেটিই ব্যবহার করুন না কেন, নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-

  • সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার গামছা বা তোয়ালে ধুয়ে ফেলুন।
  • ভালোভাবে রোদে শুকান, কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অনেক জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
  • স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় কখনও ভাঁজ করে রাখবেন না।
আরও পড়ুন

বৃষ্টি, যানজট, দেরিতে স্ট্রেস নয়, কাজে মনোযোগ রাখবেন যেভাবে

পরিবারের প্রত্যেকে আলাদা গামছা বা তোয়ালে ব্যবহার করুন। বিলাসবহুল তোয়ালে ব্যবহারে আরাম বেশি মিলতে পারে, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি, দ্রুত শুকানোর ক্ষমতা এবং ত্বকের পরিচ্ছন্নতার দিক বিবেচনা করলে সুতির গামছাই অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে। বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময়ে নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো গামছা ব্যবহার ত্বককে সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: টাওয়াল হার্ব, ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি , ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া

এসএকেওয়াই