চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সময়োপযোগী এবং কোটি জনতার প্রাণের দাবিরই এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে আর কখনো ফিরতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক দল হিসাবে শিগ্গিরই তাদের বিচারের মুখোমুখিও করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলটি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য শুধু ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং বহু শহীদের হাসপাতালের নথিপত্র গায়েব করে তাদের বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে দাফন করেছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বলা বাহুল্য, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে পতন হওয়া এই দলটির বিচার কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং ফ্যাসিবাদের নির্মম বুলেটে শহীদ হওয়া দেড় সহস্রাধিক মানুষের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায়। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় রাষ্ট্রযন্ত্রকে কবজা করে বিচারহীনতা, গুম, খুন, এবং নজিরবিহীন লুণ্ঠনের যে রাজত্ব তারা কায়েম করেছিল, জুলাইয়ের গণহত্যা ছিল তারই এক চূড়ান্ত ও নৃশংসতম বহিঃপ্রকাশ।
ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো, ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী দলগুলোর পতন সব সময়ই অত্যন্ত কলঙ্কজনক হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশেষ করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য এত বড় গণহত্যা চালিয়েও যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা বা দুঃখপ্রকাশ নেই, তাদের এ দেশের মাটিতে আর কখনো রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না বলে জুলাই যোদ্ধাদের অভিমত। ব্যাংক খাত লুটপাট, ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ফোকলা করে দিয়ে তারা যে দেউলিয়া রাজনীতির পরিচয় দিয়েছে, তাতেই দেশের মানুষের মন থেকে দলটি চিরতরে মুছে গেছে।
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কাঠামো সংশোধন করে দল হিসেবে তাদের বিচারের যে আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, অনাগত ভবিষ্যতের জন্য একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শাসক বা দল জনগণের ওপর এমন স্বৈরাচারী আচরণ করার দুঃসাহস না দেখায়, তা নিশ্চিত করা দরকার।








