তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসে ফ্রান্সে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) কেনার হিড়িক পড়েছে। শুধু ইউরোপ-আমেরিকার ধনী দেশগুলোয়ই নয়, বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি ভবন-বাসাবাড়ি, শপিং মলসহ বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ আরামদায়ক করতে এই যন্ত্রের ব্যবহার হয়। এমনকি দেশের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারেও এসির ব্যবহার হচ্ছে।
কিন্তু এসির আবিষ্কার কিন্তু ঘর ঠান্ডা করে গরম থেকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য হয়নি; বরং এটি আবিষ্কার হয়েছিল ছাপা পত্রিকার মুদ্রণ সহজ করতে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, উইলিস ক্যারিয়ার নামের একজন উদ্ভাবক ১৯০২ সালে এসি আবিষ্কার করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাতাসের আর্দ্রতার কারণে পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা সাময়িকী ছাপানো খুব কষ্টকর ছিল। আর্দ্রতার কারণে পত্রিকা ও সাময়িকীর কাগজগুলো কুঁকড়ে যেত। কালি ছড়িয়ে পড়ত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে উইলিস ক্যারিয়ার এমন কিছু উদ্ভাবন করতে চাইলেন, যা বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে ছাপার কাজটি সহজ করে। আর তাঁর সেই প্রচেষ্টাই আধুনিক বৈদ্যুতিক এসির জন্ম দেয়।
উইলিস ক্যারিয়ার এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন, যার কয়েল তাপ শোষণ করত। সেই শীতল কয়েলের ওপর ফ্যান দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করলেন তিনি। আর এতেই বাতাসের জলীয় বাষ্প কয়েলের ওপর জমা হতে থাকল। ফলে বাতাসের আর্দ্রতা কমল, ঘর হলো শীতল। আর ছাপার কাজটি হয়ে গেল সহজ।
প্রথম দিকে এসি ব্যবহার হতো শুধু মুদ্রণশিল্প আর কারখানায়। কারখানায় গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের সময় কাজের বিরতি দিতে হতো আগে। এসির ব্যবহার শুরুর পর তা আর করা লাগেনি। তারপর ১৯২০ সালের দশকে এসি বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা হলে বসানো শুরু হলো। সিনেমা হলগুলো অবশ্য ব্যবসায়িক মুনাফার আশায় এ কাজ করেছিল। গ্রীষ্মের খরতাপ থেকে স্বস্তির পাশাপাশি বিনোদন পেতে থেকে মানুষ সিনেমা হলে ভিড় করতে থাকল। আর এ কারণেই ‘সামার ব্লকবাস্টার’ শব্দযুগলের উৎপত্তি হলো।
এরপর প্রযুক্তির উৎকর্ষের কল্যাণে এসি আরও বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার হতে লাগল। এমনকি এসির কল্যাণে এমন সব জায়গায় নগর গড়ে তোলা সম্ভব হলো, যেসব জায়গা ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ। এর অন্যতম উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের সান বেল্ট। এই বেল্টে পড়েছে দেশটির ফ্লোরিডা, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এসব অঙ্গরাজ্যে এসির ব্যবহার বেড়ে যায়। তারপরই এসব অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়, গড়ে ওঠে বড় বড় শহর-নগর।
আর এখন এসির ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা ঘরে ঘরে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো সব জায়গায় এসির ব্যবহার হচ্ছে।







