রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে পুলিশ সদস্যর ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠার বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন মো. মহসিন হাসান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার একটি ফেসবুক পেজে “দৌলতদিয়া পোড়াভিটার শীর্ষ মাদক কারবারি রানির নিকট থেকে টাকা নিচ্ছেন গোয়ালন্দ থানার পুলিশ” শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারী যুবকের হাতে কিছু টাকা প্রদান করছেন এবং ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। ভিডিওর শিরোনাম ও বিবরণ অনুযায়ী, টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য এবং অর্থ প্রদানকারী নারী দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রানি। ঘটনাটি ঘটে গোয়ালন্দ ঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায়, যা আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ারাধীন।
আদালতের বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মচারীর মাদক ব্যবসায়ীর নিকট হতে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গই নয়, বরং প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের অধীনে অপরাধের উপাদান বহন করতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর অনুসন্ধান অপরিহার্য। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত দি কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসেডস, ১৮৯৮’-এর ধারা ১৯০(১) (সি) অনুযায়ী বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আদেশে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারকে নিজে অথবা তার অধস্তন অন্য কোনো দক্ষ কর্মকর্তা (যিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন) দ্বারা ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি আসলেই বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য কিনা তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত বর্ণনাপূর্বক একটি তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আগামী ১৬ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করবেন। এই আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে মাদকের হাটখ্যাত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় কনস্টেবল মামুন শিকদারকে বদলি করা হয়েছে। গত ২৮ জুন পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহা. কাজেম উদ্দীন ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের পক্ষে স্বাক্ষরিত পরিপত্রে দেখা যায়, তাকে এখান থেকে বদলি করে গাজীপুর জেলায় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি নিয়মিত বদলির অংশ। তাছাড়া সে নিজে এখান থেকে বদলি হয়ে অন্য জেলায় যেতে চেয়েছিল। ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ছয়মাস আগের। তখন এ বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছিল সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে।
রুবেলুর রহমান/কেজে/জেআইএম








