স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচ শেষে ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। যদিও তিনি গোল করেননি, এমনকি কোনো সরাসরি অ্যাসিস্টও ছিল না।

তবে পুরো ম্যাচে তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই অনেকের প্রশ্ন থাকলেও, পরিসংখ্যান বলছে ম্যাচসেরা হওয়ার দাবিদার ছিলেন ইয়ামালই।
ম্যাচে ইয়ামাল ৬টি শট নেন, যার মধ্যে দুটি ছিল অন টার্গেট এবং দুইটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ব্লক করে। তিনি প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচবার বল স্পর্শ করেন এবং একবার অফসাইডে ধরা পড়েন। এছাড়া ফাউল আদায় করেন একটি।

সবচেয়ে আলোচনায় থাকা পরিসংখ্যানটি হলো তার ৮টি ড্রিবলের ভেতর ৪টি সফল ড্রিবল ছিল। পুরো ম্যাচজুড়ে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের বারবার কাটিয়ে আক্রমণে গতি আনেন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। একের পর এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি স্পেনের আক্রমণের মূল ভরসায় পরিণত হন।

পাসিংয়েও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ইয়ামাল ৪৬টি পাস দিয়ে তার মধ্যে ৩৯টি সফল করেন। প্রতিপক্ষের বক্সে চারটি পাস দেন, তিনটি ক্রস করেন এবং দুটি কর্নার নেন। এছাড়া শেষ তৃতীয়াংশে দুটি কার্যকর পাস খেলেন, যা স্পেনের আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রক্ষণভাগেও অবদান রাখেন এই তরুণ। একটি ট্যাকেল, একটি ইন্টারসেপশন ও দুটি বল পুনরুদ্ধার করেন। ব্যক ম্যাচে তার অবিরাম চাপ এবং ড্রিবলিংয়ের কারণে বেলজিয়ামের রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।

ম্যাচের তিন গোলদাতা — ফাবিয়ান রুইজ, চার্লস ডি কেটেলারে ও মিকেল মেরিনো। তারা গোল করলেও পুরো ম্যাচে ইয়ামালের মতো ধারাবাহিক প্রভাব রাখতে পারেননি। তাই গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকলেও ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে অস্থিরতা তৈরির জন্য ফিফার ম্যাচসেরা নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলেই মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।

আরআর/আইএন