গুম ও নির্যাতনের সত্যতা বিচারে ঢাকা সেনানিবাসের জেআইসি ঘুরে দেখলেন আদালতডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত এবং ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত আলোচিত গোপন বন্দিশালা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারকসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা।শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে অবস্থিত এই বন্দিশালায় প্রবেশ করে তারা সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের অপহরণ, গুম, পৈশাচিক নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থেই আদালতের এই সরেজমিন পরিদর্শন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এ পরিদর্শনে অংশ নেন সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মুহাম্মদ শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের অন্য সদস্যরা, তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরিদর্শনের সিদ্ধান্তটি মূলত ট্রাইব্যুনাল-১ নেয় গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র্যাব-১ সদর দপ্তরের গোপন বন্দিশালা টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালের টিম। সেদিন তারা ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখার পাশাপাশি সাতটি ডেথ সেলে বন্দিদের আটকে রেখে চালানো নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন।সেই পরিদর্শনের পর আওয়ামী লীগ আমলের বিভীষিকাময় চিত্র তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, "আয়নাঘরে হাত-মুখ বেঁধে রাখা হতো, আবার অনেককে হত্যাও করা হতো।"
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতের মানুষদের অবৈধভাবে আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত এই গোপন বন্দিশালাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ‘আয়নাঘর’ নামে কুখ্যাতি পায়। সেখানে চালানো গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় ডিজিএফআইয়ের পাঁচজন সাবেক মহাপরিচালক ও পাঁচজন সাবেক পরিচালক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক তিন পরিচালক: মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন।








