পটিয়ায় শুধু হাজিরা দিয়ে স্বনামধন্য শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন সাত শিক্ষক-শিক্ষিকা। পটিয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ে মঞ্জুরিকৃত পদের অতিরিক্ত এ সাত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলির পর স্কুল থেকে ২০২৩ সালের ২১ জুন অবমুক্ত করা হয়েছিল। অবমুক্ত হওয়ার ১৪ দিন কর্মবিমুক্ত থেকে তারা ওই বছরের ৫ জুলাই বদলি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত মামলা করলে আদালত স্থগিতাদেশ দেন। এরপর থেকে গত তিন বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে শুধু হাজিরা দিয়েই তাদের দায়িত্ব সারছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তাদের অবমুক্ত করার ফলে অন্য ছয়টি বিদ্যালয়ে তাদের সংযুক্ত হওয়ায় সেসব স্কুল থেকে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সেসব বিদ্যালয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অন্যকোনো শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ওই ছয়টি বিদ্যালয়ে পদায়ন করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকের অনেকে ওই বিদ্যালয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কর্মরত আছেন। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই স্কুলের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্কুলের কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে মারতে উদ্যত হন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ সোহেল। তাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিভক্তি এবং দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এ বিষয়ে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্কুল পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়। ঘটনা তদন্তের পর ২১ জুন একযোগে বদলি ও বিদ্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ১৭ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের ১৭ জনকে একযোগে বদলির পর ওই বছরের ২২ জুন নতুন করে যোগদান করেন ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিদ্যালয় থেকে অবমুক্ত হওয়ার পর ১০ শিক্ষক বিভিন্ন বিদ্যালয় যোগদান করলেও সাত শিক্ষক-শিক্ষিকা নতুন কর্মস্থলে ১৪ দিন কর্মবিমুখ থেকে বদলি আদেশের বিরুদ্ধে ৫ জুলাই উচ্চ আদালতে মামলা করেন। মামলায় আদালত তাদের বদলি আদেশ স্থগিত করায় এরপর থেকে সাত শিক্ষক-শিক্ষিকা নতুন কর্মস্থলের বদলে শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই ১৪ দিন কর্মবিমুক্ত থাকাকালীন সময়সহ তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। সেখানে মঞ্জুরিকৃত পদের তুলনায় সাত শিক্ষক বেশি আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে নতুন গ্রুপ আর পুরোনো গ্রুপ নামে বিভক্তি আর দলাদলির সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ইনটিগ্রেটেড প্রাইমারি অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (আইপিইএমআইএস) ওয়েবসাইটে ওই সাত শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মস্থল ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেসব শিক্ষক ওই ছয় বিদ্যালয়ে বদলি হলেও সে সময় যোগদান করেননি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, এসব শিক্ষকের বেতন দেওয়া হচ্ছে অন্য ছয়টি স্কুলের আইডি থেকে। তাদের বিষয়ে আদালতে সুরাহা করার জন্য মহাপরিচালককে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। তাদের কারণে অন্য ছয়টি বিদ্যালয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তাদের বসিয়ে না রেখে কয়েকটি শ্রেণিতে দুজন করে শিক্ষিক-শিক্ষিকা পাঠদানের জন্য প্রেরণ করা হয়। তাদের মধ্যে বিভক্তির বিষয়টি জানা নেই।








