দুই ইউরোপীয় শক্তি। লক্ষ্য একটাই, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়ানো। সেই লড়াইয়ে রাতে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
শেষ ষোলোতে কঠিন পরীক্ষায় উতরে এসেছে দুই দলই। স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের পথ মোটেও সহজ ছিল না। অস্বস্তিকর কিকঅফ সময়, রাইট-ব্যাক সংকট এবং টুর্নামেন্টে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে মেক্সিকোর দুর্দান্ত রেকর্ড, সব মিলিয়ে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল থমাস টুখেলের দল। তবে জুড বেলিংহামের জোড়া গোল, হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে গোল এবং ড্যান বার্নের দৃঢ় উপস্থিতিতে সেই সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১১তমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
মেক্সিকোর বিপক্ষে মাত্র ৩৩.২ শতাংশ বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপে এটিই তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পজেশন। কিন্তু পাল্টা আক্রমণের ধার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে সেই ঘাটতি একেবারেই বোঝা যায়নি। ইংল্যান্ড এখন টানা তিন ম্যাচ জয়ের ধারায় রয়েছে। এই তিন ম্যাচেই তারা অন্তত দুটি করে গোল করেছে। সব মিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচে তাদের জয় ছয়টি। একমাত্র হোঁচট ছিল ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র। তবে বিশ্বকাপের নকআউটে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাধা। শেষ ছয়টি বিদায়ের পাঁচটিই এসেছে ইউরোপের দলের বিপক্ষে।
অন্যদিকে নরওয়ের একমাত্র হারও এসেছে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল তারা। এরপর আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলই তাদের থামাতে পারেনি।
ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত ছিলেন আর্লিং হালান্ড। প্রথমে হেডে দলকে এগিয়ে নেন, পরে অসাধারণ এক ফিনিশে ব্যবধান বাড়ান। ১০০তম মিনিটে নেইমারের পেনাল্টি গোল শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতাকেও যেন ম্লান করে দিয়েছে নরওয়ে। সিনিয়র পুরুষ ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখার পাশাপাশি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা।
স্টালে সোলবাক্কেনের দল পাঁচ ম্যাচে করেছে ১২ গোল, আবার হজম করেছে ৯টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১০টির বেশি গোল করে এবং ১০টি গোল হজম করেও সেমিফাইনালে ওঠার একমাত্র নজির ১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানির, যারা শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল।
তবে বিশ্বকাপে এখনো কোনো ইউরোপীয় দলকে হারাতে পারেনি নরওয়ে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ চার দেখায় একটি গোলও করতে পারেনি তারা। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ড এগিয়ে, সাত জয়ের বিপরীতে নরওয়ের জয় মাত্র দুটি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় জ্যারেল কোয়ানসাহ এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে, ফলে সেমিফাইনালেও সুযোগ থাকছে না। রিস জেমস এখনও হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে অনিশ্চিত। তাই সুস্থ হয়ে ফেরা জেড স্পেন্সকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে জন স্টোনস কিংবা এজরি কনসাকেও সেই জায়গায় খেলানো হতে পারে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের আনন্দ ম্লান হয়েছে জর্ডান হেন্ডারসনের চোটে। বিজ্ঞাপন বোর্ডের সঙ্গে দুর্ঘটনায় কব্জিতে গুরুতর চোট পেয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মার্ক গেহি হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় এবং ডেকলান রাইস অসুস্থতার কারণে অনিশ্চিত। গেহির অবস্থা বেশি উদ্বেগের। তিনি না খেললে হলান্ডকে সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে ড্যান বার্নের ওপর।
নরওয়ের দলে অবশ্য স্বস্তির খবরই বেশি। ব্রাজিল ম্যাচে শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও লেফট-ব্যাক ডেভিড মোলার উলফে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য তাকে নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ফলে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই নামতে পারবেন স্টালে সোলবাক্কেন। ওস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস স্কেলদেরুপ দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় আলেকজান্ডার সরলোথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গার জন্য লড়াই আরও জমে উঠেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে দুই গোলই তৈরি করে দিয়েছিলেন স্কেলদেরুপ।
ব্যক্তিগত লড়াইটাও কম আকর্ষণীয় নয়। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সাত গোল নিয়ে এখনও আছেন আর্লিং হলান্ড। এবারের বিশ্বকাপে তার শট থেকে গোল করার হার ৩৯ শতাংশ। অন্তত ১৫টি শট নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে ১৯৮৬ সালের গ্যারি লিনেকারের পর এটিই সেরা ।








