মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে, যেখানে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল আফ্রিকার দলটি, টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট এবং বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
এর মাধ্যমে ফ্রান্স ব্রাজিল (১৯৯৪-২০০২) এবং পশ্চিম জার্মানির (১৯৮২-১৯৯০) কাতারে নাম লেখালো। এই দুই দলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছে। ২০৩০ সালে আরেকটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে পারলেই ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে শেষ চারে ওঠা জার্মানির সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করবে তারা।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের কার্যকারিতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপের গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে এই দু’জন ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথম সতীর্থ জুটি হিসেবে একই আসরে পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছেন।
মাইকেল ওলিসের সৃজনশীলতা এবং পিএসজির উদীয়মান দুই তারকা দেজিরে দুয়ে ও ব্র্যাডলি বারকোলার সহায়তায় ফ্রান্সের বর্তমান আক্রমণভাগ আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়ংকর ও সফল আক্রমণভাগ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।
মরক্কোর বিপক্ষে সর্বশেষ গোলটি করে এমবাপে এই বিশ্বকাপে নিজের অসাধারণ প্রভাব আরও একবার প্রমাণ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে অন্তত আটটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও তিনি আট গোল করেছিলেন।
গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এমবাপে। এ আসরে এখন পর্যন্ত তিনটি গোলে সহায়তা করে তার মোট গোলে অবদান দাঁড়িয়েছে ১১টি। এর ফলে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই বিশ্বকাপে এমবাপের ১১টি গোলে অবদান ১৯৭০ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১০ গোলের পাশাপাশি ৩টি গোলের সহায়তা মিলিয়ে মোট ১৩টি গোলে অবদান রেখেছিলেন।
মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা এমবাপে বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার সামনে। তিনি ও লিওনেল মেসি- দুজনেরই গোল সংখ্যা এখন আটটি। তবে বেশি গোলে সহায়তা থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক।
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে চলা ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এখন দারুণ ছন্দে রয়েছে। ডান প্রান্তে উসমান দেম্বেলের গতিময়তা এবং মাঝমাঠে মাইকেল অলিসের সৃজনশীলতা এমবাপের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস








