আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মারিও আলবার্তো কেম্পেস ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে রেফারিংয়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, যারা এমন অভিযোগ তুলছে তারা মূলত পরাজয়ের হতাশা থেকেই কথা বলছে।

টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেম্পেস বলেন, ‘হারলে মানুষ সব সময় কাঁদে। আর কেউ যদি মনে করে তোমাকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে সে খুবই বিভ্রান্ত।’

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে ১-০ অবস্থায় মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়ার পর অনেকেই দাবি করেন, কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও আর্জেন্টিনা সুবিধা পাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেম্পেস বলেন, ‘১৯৭৮ সালে আমাদের নিয়ে যা যা বলা হয়েছিল, তার পর এসব শুনে আমি এখন আর অবাক হই না। আজ কলম্বিয়ার একটি রেডিও আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, কাতার বিশ্বকাপ নাকি আর্জেন্টিনাকে উপহার দেওয়া হয়েছিল, আর এখন নাকি ম্যাচও উপহার দেওয়া হচ্ছে! এসবের জবাব কী দেব? ওদের বলতে দিন। সব কিছুর উত্তর দিতে গেলে আমরা পাগল হয়ে যাবো।’

১৯৭৮, ২০২২ এবং বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের তুলনা করতে গিয়ে কেম্পেস বলেন, প্রতিটি দলই নিজ নিজ সময়ে সেরা ছিল। তবে বর্তমান দল যদি আবারও বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তাদের সবার ওপরে রাখা হবে, ‘আমি সব সময়ই বলেছি, তিনটি দলই তাদের সময়ে সেরা ছিল। কিন্তু এই দল যদি আবার বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে নিঃসন্দেহে তারাই হবে ইতিহাসের সেরা। এতে কোনো সন্দেহ থাকবে না। এখন পর্যন্ত তিনটি দলই সমান অবস্থানে আছে।’

প্রতিপক্ষ দলগুলোর মানসিকতা নিয়েও মন্তব্য করেন কেম্পেস, ‘আমি অবাক হয়েছি, সবাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কতটা সতর্ক হয়ে খেলছে। কেউই সমানতালে লড়াই করতে চায় না। এমন ম্যাচে সর্বোচ্চ মনোযোগ দরকার, কারণ প্রতিপক্ষ খুব কম সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগিয়ে ফেলছে।’

মিশরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার জয়কে তিনি পুরো দলের কৃতিত্ব বলে উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে, কিন্তু শিরোপা জেতায় দল। মিশরের বিপক্ষে যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটা ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। মাত্র ১২ মিনিটে এমন একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সহজ নয়।’

বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই নিয়ে নিজের পূর্বাভাসও দিয়েছেন কেম্পেস, ‘আমার মতে, শিরোপার প্রধান দাবিদার স্পেন, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডও এখনও দৌড়ে আছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

আরআর/আইএন