হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে অন্যান্য দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করবে। সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কথা বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, আমরাই এটি পাহারা দেব। পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা অর্থ পাব-অনেক অর্থ। আমাদের মানুষদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) লঙ্ঘন করেছে ইরান।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের একটি চুক্তি ছিল। তারা সব সময়ই তা ভঙ্গ করে। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। সম্ভবত আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেব!
তিনি আরও বলেন, আমরাই এর অভিভাবক দেবদূত (Guardian Angel) হব। আর এজন্য আমাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
সমঝোতা স্বাক্ষর ভেস্তে দিয়ে ফের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। স্মারকে উল্লিখিত শর্ত পূরণ না করায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইসলামি গার্ড কোর আইআরজিসি। ফলত গত বৃহস্পতিবার ইরানে হামলা শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় আইআরজিসি।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়।
কেএম







