আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রভাব কমাতে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির থাকা উচিত নয়।
চলতি বছর রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য ভবিষ্যতে ট্রাম্প বা তার কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার সম্ভাবনা ঠেকাতেই আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে সমর্থন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা জানান, আইসিসিকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল, আইসিসি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য দেশকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে আসতে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে তবেই আদালত তার এখতিয়ার প্রয়োগ করে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য হয়নি।
প্রথম মেয়াদ থেকেই আইসিসির প্রতি ট্রাম্পের বিরোধিতা শুরু হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আইসিসি কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আবারও সামনে আসে। এর মূল কারণ ট্রাম্পের মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আইসিসি।
গত মাসে আইসিসির তিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, গত বছর তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বেআইনি ছিল।
পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা অন্যান্য দেশের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এর মাধ্যমে আইসিসি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মূলত এই আদালত যাতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারে তাই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২০২০ সালের মার্চে আফগানিস্তানে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করে আইসিসি। এর মধ্যে মার্কিন সেনাদের নানা কর্মকাণ্ড অন্তর্ভূক্ত ছিল। তবে, ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার না দিয়ে আফগান সরকার ও তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আদালত।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশ মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে, নিজ দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাখে বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষার সুবিধা ভোগ করে, তাদের প্রতি আইসিসির দাবি প্রত্যাখানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তা ও সেনাদের বিচারের আইসিসির দাবিকৃত এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করতে দেশগুলোতে কূটনৈতিক চাপ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণ করেও আইসিসিকে প্রত্যাখ্যান করবে না, তাদের ওপর আরও নিবিড় নজরদারি করা হবে।
তিনি বলেন, আমেরিকানদের জন্য এই হুমকির বিরুদ্ধে কোন কোন দেশ আমাদের সঙ্গে একাত্ম হয়, তা আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করব। যারা অন্যদের সুরক্ষার জন্য নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত, সেই মার্কিন নাগরিকদের রক্ষায় আমরা এই অবস্থান নিচ্ছি।
সূত্র: রয়টার্স
কেএম








