সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমিক পর্যায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চমক দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। অসাধারণ শিক্ষাগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিনি ১ লাখ দিরহাম (প্রায় ৩৪ লাখ টাকা) করে নগদ পুরস্কার প্রদান করেছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) খালিজ টাইমস জানিয়েছে, গত শনিবার ওই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সরকারি, বেসরকারি এবং অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি—এই তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা এই পুরস্কার লাভ করেন। সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে এবং শিক্ষার উৎকর্ষকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আমিরাতের নেতৃত্বের অঙ্গীকারকে আরও একবার তুলে ধরেছে।

সরকারি শিক্ষায় এলিট ট্র্যাকে দুবাইয়ের আল-রাশিদিয়া সাইকেল-৩ গার্লস স্কুলের আবির আবদুল রহমান ফায়েজ হুমাইদ আল শামসি, অ্যাডভান্সড ট্র্যাকে আবুধাবির আল-খাতিম বয়েজ স্কুলের আদম মোহাম্মদ আওয়াদ ইব্রাহিম এবং জেনারেল ট্র্যাকে আল-মাওয়াহেব গার্লস স্কুলের হেসা রাশিদ মুসবেহ আবদুল রহমান আল আলিলি জাতীয় সেরা হয়েছেন।

বেসরকারি শিক্ষায় অ্যাডভান্সড ট্র্যাকে শারজাহর আল নূর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুলের আলি আসিম হাসান এবং জেনারেল ট্র্যাকে আবুধাবির আল ফালাহ একাডেমির আবদুল্লাহ ইয়াসের আবু আরাবি শীর্ষস্থান অর্জন করেন।

অন্যদিকে অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি শিক্ষায় বিজ্ঞান ট্র্যাকে ফুজাইরাহর রাশিদ আহমেদ রাশিদ আলি আল-ধানহানি, অ্যাডভান্সড ট্র্যাকে আজমানের শেখা আবদুল আজিজ আবদুল রহমান মোহাম্মদ আল হোসানি এবং জেনারেল ট্র্যাকে উম্ম আল কুওয়াইনের মরিয়ম সাঈদ হামাদ আল হাদফি আল কেতবি জাতীয় সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

গত ১১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় শেখ মোহাম্মদ দেশসেরা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে গর্বিত। তারাই আমিরাতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষাই দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় প্রকল্প এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ইউএই সর্বোত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের পরিবার, শিক্ষক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা শেখ মোহাম্মদের উদার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, করোনা মহামারি, বৈশ্বিক সংকট এবং অনলাইন-অফলাইন শিক্ষার নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেও এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা তাদের অধ্যবসায়, পরিবারের সমর্থন এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউএই আবারও স্পষ্ট করেছে, শিক্ষায় উৎকর্ষ, মেধার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই দেশটির অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার।