কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অপহরণের পর নৌকায় হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যা করে স্কুলছাত্রীর লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে। উপজেলার মহিষারকান্দি এলাকার ঘোড়াউত্রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
২৭ জুন বিকালে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হলে মিঠামইন সদর বাজারঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন রোববার রাত ৮টার দিকে আবদুল হামিদ পল্লি এলাকায় নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ ভাসতে দেখেন লোকজন। খবর পেয়ে পোশাক ও শরীরের বর্ণনা শুনে ছাত্রীকে শনাক্ত করেন তার মা ও স্বজনরা। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই লাশটি স্রোতে ভেসে যায়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ উপজেলা সদরের মহরপুর বেরিবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় মিয়া ও তার ফুপাতো বোনজামাই ইমরান হোসেনকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে। পরে তারা ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তারা জানান, ‘২৭ জুন বিকালে তারা দুজনসহ আরও কয়েকজন মিলে নদীঘাট এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি নৌকার তুলে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন। শেষে হত্যার পর গভীর রাতে মহিষারকান্দি এলাকায় ঘড়াউত্রা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়।’
ছাত্রীর মা বলেন, কিছুদিন ধরে মহরপুরের অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। রোববার আবদুল হামিদ পল্লির উত্তর পাশে নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকার খবর পান তিনি। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও দেখে সেটি তার মেয়ের লাশ বলে শনাক্তও করেন। কিন্তু খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই লাশটি স্রোতে ভেসে যায়। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেছেন।
স্থানীয় ওমর ফারুক বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তার মা। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল তার।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে তারা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, ‘ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মেধাবী ছিল।’ তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
রোববার রাতে আবদুল হামিদ পল্লি এলাকায় নদীতে ভাসমান লাশটি প্রথম দেখেন স্থানীয় জেলে আল-আমিন। তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী। বাবু ও মহরম বলেন, লাশটির দুই হাত-পা বাঁধা ছিল। এটি দেখে মিঠামইন থানায় ফোনে কল করে পুলিশকে খবর দিই। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় তারা দ্বিতীয়বার কল করেন। তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুর্গন্ধের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে লাশটি ভেসে যায়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় আটক হৃদয় ও ইমরান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের শুক্রবার কিশোরগঞ্জের আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধারেও নদীতে ব্যাপক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।




