রাজনৈতিক মেরুকরণ ও গভীর বিভাজনের আবহেই স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার মাউন্ট রাশমোরে স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই স্বাধীনতা ঘোষণার আড়াই শ’বছর পূর্তিতে দেশজুড়ে উৎসবের আয়োজন থাকলেও এর পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক বিভক্তির চিত্রও বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠে ট্রাম্পের ভাষণে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও ঐতিহ্য নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিলেও ধীরে ধীরে তার ভাষণ রাজনৈতিক রূপ নেয়। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য একটি প্রাণঘাতী হুমকি। দ্য গার্ডিয়ান।
মাউন্ট রাশমোরে প্রায় আধা ঘণ্টার ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ স্লোগানে তাকে স্বাগত জানানো হয়। ট্রাম্প গ্রানাইট পাহাড়ে খোদাই করা চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং আব্রাহাম লিংকনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা ছিলেন কর্ম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সাহস, নিয়তি এবং অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। তারা ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব। ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মার্কিনিদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার এবং তাদের জাতীয় চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ সমর্থকে ভরা জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনা হবে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা আমাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যেমনটা করে-সেই ঐক্যের বার্তা দেওয়ার প্রচলিত ধারা অনুসরণ না করে ট্রাম্প তার ভাষণকে রাজনৈতিক আক্রমণের দিকে নিয়ে যান। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে তিনি আবারও প্রগতিশীল ডেমোক্রেটদের কমিউনিস্ট হিসাবে আখ্যা দেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে দাবি করেন। তার দাবি, কমিউনিজম যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার চেয়েও বড় হুমকি। এদিকে স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া ভাষণে অভিবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটি হলে দেওয়া ভাষণে দেশটির ইতিহাসে অভিবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। মামদানির এ ভাষণকে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আদর্শিক পালটা বার্তা হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কের ইতিহাস মূলত অভিবাসীদের ইতিহাস। ফেডারেল সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সত্ত্বেও অভিবাসীরা নিউইয়র্কে নিজেদের ঘর গড়েছেন এবং এই শহরকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।’




