চা বিক্রেতা মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। বাড়ির পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপশি ওই দোকানে করতেন বিকাশের ব্যবসা। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনো রকমে চলত তার সংসার। তবে, অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণে তিনি জর্জরিত হয়ে পড়েন। তাই তিনি কোনো উপায়ন্তর না দেখে আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত নেন। আত্মগোপনে গিয়ে তিনি তার স্ত্রী রীনা আক্তারের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় মুক্তিপণ চেয়ে ‘অপহরণ নাটক’ সাজান। তাকে (রাশেদুল) অপহরণ করা হয়েছে বলে তার স্ত্রীকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও পাঠানো হয়। ওই ভিডিওতে দুই অপহরণকারী তার স্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, মুক্তিপণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে অপহরণকারীরা তার স্বামীকে মেরে ফেলবে। স্বামীর সাজানো নাটক বুঝতে না পেরে গত ১ জুলাই বিকালে রীনা আকতার তার স্বামী রাশেদুলকে অপহরণ হয়েছে বলে থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাশেদুলকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ‘অপহরণ নাটক’ সাজানোর সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরের দিকে পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। উদ্ধার রাশেদুল উপজেলার ধলই ইউনিয়নের মুনিয়া পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতাররা হলেন-রাজানগর ইউনিয়নের হালিমপুর গ্রামের বাইশ্যা ডেবা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন ও বাখরুঘাটা গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে ইব্রাহিম প্রকাশ বাপ্পি। ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান জানান, মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ে ‘অপহরণ নাটক’ সাজান রাশেদুল আলম নামে গ্রেফতার ওই যুবক।