করতালিতে মুখর চারপাশ। বাজছে ঢাকঢোল। গাড়ির হর্ন বাজিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে কেপ ভার্দের জনগণ। দৃশ্যটা যেন বড় কোনো জয়-উৎসবের। আসলে তা নয়। এই উৎসব হেরেও জয়ের। কিছুক্ষণ আগে মায়ামিতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের দল। শনিবার মধ্যরাতে রাজধানী প্রাইয়ার আকাশে-বাতাসে ছিল আনন্দের আবহ। বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে হেরেও জয়ী হয়েছে। ব্লু শার্কদের এই বিদায় গর্বের, কৌলীন্যের।
কেপ ভার্দে এতদিন ছিল অচেনা একটি দেশ। এবার সেই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র বিশ্ব ফুটবলে গনগনে এক সূর্য। ফুটবলপ্রেমীদের অশেষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছে তারা। শেষ বত্রিশে হারের পর চোখে জল নিয়ে বিদায় বলেছেন খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছে। গ্রুপপর্বে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে তারা জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে। শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয় কেপ ভার্দে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা। সেখানেই থামে কেপ ভার্দের রূপকথার গল্প। সমর্থক আদিলসন সোয়ারেজ বলেন, ‘আমরা ম্যাচে হেরেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, জিতেছি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা সমানতালে লড়েছি। কেপ ভার্দে অসাধারণ।’
৪৮ দলের বিশ্বকাপের বিস্ময় আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র। ম্যাচ শেষে প্রাইয়ায় রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত উৎসব চলে। ভুভুজেলা, গান আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাস্তাঘাট। সমর্থক পেদ্রো রামোস বলেন, ‘কেপ ভার্দে মাথা উঁচু করে বিশ্বকাপ ছাড়ছে। আমরা আর্জেন্টিনাকে হারানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। অন্তত স্বপ্ন দেখার সুযোগ তো পেয়েছিলাম।’ মায়ামিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকে ঠাসা গ্যালারি স্তব্ধ হয়ে যায় ম্যাচের ৫৯ মিনিটে। দেরয় দুয়ার্তের সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১১ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর চাপে দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে। কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ মিসর।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের লড়াই বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলোর একটি হয়ে থাকবে। কূটনীতিক আরমান্দো লোপেস বলেন, ‘মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখছি। কে ভেবেছিল, কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে বাধ্য করবে?’ ম্যাচের আগে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেছিলেন, ‘আমরা শান্ত আছি। যোগ্যতা দিয়েই এখানে এসেছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা ম্যাচটি উপভোগ করব এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ শেষ পর্যন্ত তার দল সেটিই করেছে। হেরেও জয় করেছে কোটি মানুষের হৃদয়।








