শোকের শোভাযাত্রায় তাজিয়া মিছিলই মূল আকর্ষণ। শুক্রবার ১০ মহররম মধ্যরাত থেকে সকাল, দুপুর, বিকাল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে প্রার্থনা। হাজারো মানুষের মাতমে রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শুরু হয় পবিত্র আশুরার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। এ দিন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। বুধবার থেকেই আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ইমামবাড়ায় সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিল। সকাল ১০টায় হোসেনি দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ খালি পায়ে, বুক চাপড়ে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকেও সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। বুকের ওপর ডান হাত রেখে তারা মাতম করে বলছিলেন, ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’। শোকের প্রতিচ্ছবি হিসাবে তাদের পরনে ছিল কালো পোশাক। অনেকের হাতে ছিল নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়া, পাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক। মিছিলটি যে সব সড়ক হয়ে এগুচ্ছিল, হাজারো মানুষের মাতমে তৈরি হয়েছিল শোকের আবহ।

তাজিয়া মিছিলটি হোসেনি দালানের উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে বকশীবাজার লেন, এতিমখানা মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতীকী তাজিয়া বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি। ধানমন্ডি লেক পাড়ে দীর্ঘ ২/৩ ঘণ্টাব্যাপী মাতম করে শোকাহত মানুষ। এদিন রাত সাড়ে ৮টায় হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় শামে গরিবা অনুষ্ঠিত হয়। শামে গরিবায় শত শত নারী পুরুষ শোক পালন ও নামাজ আদায় করেন। এদিকে হোসেনি দালান ছাড়াও ঢাকায় আরও প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ইমামবাড়া রয়েছে। আশুরা উপলক্ষ্যে তাদেরও নিজস্ব কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে বড় কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদসংলগ্ন ইমামবাড়া, পুরানা পল্টন ইমামবাড়া ও মগবাজার ইমামবাড়ার মতো বড় ইমামবাড়াগুলো পৃথক তাজিয়া মিছিল ও মজলিশের আয়োজন করে। তবে তাজিয়া মিছিলে সব ইমামবাড়াকে একত্রিত হয়ে মাতম করতে দেখা গেছে। বুধবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশেই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি। পাশাপাশি দেশের প্রধান ইমামবাড়াগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নজরদারি করা হয়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া থেকে মহররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়।