নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘বৃষ্টি বিলাস’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। গত শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃষ্টি কখনো আমাদের মনে রোমাঞ্চ বাড়ায়, কখনোবা একাকিত্ব বাড়ায়, আবার কখনো জীবনের ধর্ম শেখায়। একই সময়, একই পরিস্থিতিতে একেক মানুষের অনুভূতি একেক রকম। ‘বৃষ্টি বিলাস’ উপন্যাসটির চরিত্র আতাউরের মাধ্যমে লেখক বিষয়টিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আতাউরের বৃষ্টি নিয়ে রয়েছে এক আলাদা ভয়। সেই ভয়ের ভিত্তি বৃষ্টির দিনে ঘটা এক ভয়ংকর অতীত। গল্পের অন্যতম চরিত্র শামা; একজন প্রখর মেধাবী ও দুরন্ত মেয়ের প্রতিচ্ছবি। গল্পের একটা অংশে আতাউরের সঙ্গে শামার বিয়ে ঠিক হয়। শেষ অংশে শামার এক কঠিন সিদ্ধান্ত, মনের অন্তর্দ্বন্দ্ব উপন্যাসটির সমাপ্তি টানে।

উপন্যাসটির অন্যান্য চরিত্রে আছে শামার ছোট বোন এশা; যে নিজেকে অনেক বুদ্ধিমতী ভাবলেও খানিক পরেই নিজের বুদ্ধি নিয়ে বিদ্রুপ করে। আরও আছে শামার বাড়িওয়ালা মুত্তালিব চাচা; যে শামার জন্য অনেক কিছু করতে চাইলেও তার অতীত অভিজ্ঞতা তাকে সব সময়ই হারানোর ভয়ে রাখে। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রই যেন একেকটি জীবনের উপলব্ধি।
পাঠ পর্যালোচনায় বন্ধু সমরজিৎ হালদার বলেন, ‘জীবন বৃষ্টির মতোই। বৃষ্টির ফোঁটার মতো ওপর থেকে পড়ার সময়টা আমাদের জীবনের আয়ুষ্কাল। কিন্তু একসময় বৃষ্টির মতোই প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যেতে হয়।’
লেখক সম্পর্কে বন্ধু কৃত্য ছত্রী বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলি কয়েকটা প্রজন্মকে বই পড়া শিখিয়েছে।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সাজন বিশ্বাস, সৌম্য মণ্ডল, প্রণব চৌধুরী, প্রত্যাশা তালুকদার, সুমন দাস, অম্লান রায়, আরাফ, অলখ সরকারসহ অনেকে।
পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা






