ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (১ জুলাই) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে কলা অনুষদের পঞ্চম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে কু-প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীর হাত ধরে জোরপূর্বক টান দেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রী চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী অভিযুক্তকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভুক্তভোগীর সহপাঠী রায়হান জানান, ঘটনার সময় তারা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছিলেন। হঠাৎ ভুক্তভোগী ফোন করে বাইরে ডাকলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তকে শনাক্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আলীনূর রহমানকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হক সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে অভিযুক্তের ছবি সংগ্রহ করে তাকে শনাক্তের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ইবি থানায় চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”