প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, চলমান শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে একটি নতুন কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করা যায়।

আজ বুধবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম কার্যকর করা হবে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়া শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে আরও শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। তিনি জানান, দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যার মাধ্যমে দেশের যে কোনো কেন্দ্রের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ভিডিও মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও ২১ দিনের পরীক্ষা

এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে পরীক্ষা চলবে।

চলতি বছর মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা নেই, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস চালু থাকবে। এছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে, যদিও দুর্গম অঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।