পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানির হার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র নিরীক্ষণ, ওএমআর টপশিট, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংসহ কয়েকটি নতুন ব্যয় খাত সংযোজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জনপ্রতি সম্মানি আগের মতোই ৬ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভায় জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিন জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ টাইপ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ৩৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের সম্মানির হার বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী- নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীরা প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল এক হাজার ২০০ টাকা।
দশম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন এক হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার টাকা। আর ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানী ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি খাতায় ৫০ টাকা, লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারীকে তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শককে প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ টাকা সম্মানী আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন পরিপত্রে লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুত (কাগজসহ) বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র তৈরি, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয়ের বিধান রাখা হয়েছে। আগে উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা নির্ধারিত ছিল।
এছাড়া নতুনভাবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, লিখিত, ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আপ্যায়ন ব্যয় সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা ও ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুসারে নির্বাহ করতে হবে। প্রয়োজনে দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বহন করা যাবে ও নাস্তার জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করা যাবে।
এছাড়া ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এএএইচ/এমআইএইচএস








