নির্ধারিত সময়ের চারমাস পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এরপর প্রায় আড়াইমাস পার হলেও ফল পায়নি তারা। ফল প্রকাশে এ ধীরগতিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। সমালোচনার মুখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- আগামী ৯ জুলাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। বুধবার (১ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের তাগিদ দেন। পরে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিন ফল প্রকাশ করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

ঝরে গেলো গণঅভ্যুত্থানের বছরে এসএসসি পাস ৫ লাখ শিক্ষার্থী

‌‘সেসময় মন্ত্রী নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান। তখন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য দিন জানানো হয়। সেটি গৃহীত হয়।’ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা না থাকলে ওই দিনই ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা।

গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন)।

ফল মিলবে অনলাইনে ও এসএমএসে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে রেজাল্ট দেখার অফিসিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ পোর্টাল। আর মোবাইল ফোনে এসএমএসের নিয়ম পরে জানিয়ে দেবে অধিদপ্তর।

বৃত্তি পাবে কতজন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ, মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন হবে, যা-তা নম্বর দিলেই ব্যবস্থা

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ : ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ : ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।

কারা কত টাকা পাবে, কতদিন পাবে

শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।

অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।

এএএইচ/কেএসআর