বিশ্বকাপ থেকে ইকুয়েডরের বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। মূলত লিওনেল স্কালোনির জায়গায় এই বেকাসেসেই আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবকে বেঈমানীর শামিল বিবেচনা করেছিলেন। তাই তিনি ইকুয়েডরকে বেছে নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার চলমান বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইকুয়েডর। ম্যাচ শেষে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে ডিএস স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিদায়ের ঘোষণা দেন বেকাসেসে।

মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বেকাসেসে কেন লিওনেল মেসিদের কোচ হওয়ার প্রস্তাবকে বেঈমানীর শামিল বিবেচনা করেছিলেন সেটা বলা যাক। ২০১৮ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তারা ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সময়ের কোচ হর্হে সাম্পাওলির সহকারী বেকাসেসেকে দায়িত্ব নিতে বলা হয় দলের। আর তার সহকারী হিসেবে স্কালোনিকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। কিন্তু বেকাসেসে এই ব্যাপারটাকে গুরু সাম্পাওলির সাথে বেঈমানীর শামিল হিসেবে দেখেছিলেন। তাই তিনি আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেননি। এরপর স্কালোনিকে প্রধান কোচের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি লুফে নেন।  

বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্তই ইকুয়েডরের সঙ্গে চুক্তি ছিল এই আর্জেন্টাইন কোচের। বিদায়ী বার্তায় বেকাসেসে বলেন, ‘আজ বিদায় বলার সময় এসেছে। অসাধারণ, দারুণ একটি পরিবারের কাছ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি।’

শেষ ১৬-তে ওঠার আগে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে ছিল ইকুয়েডর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও জার্মানিকে হারিয়ে ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সেই সাফল্যে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া জাতীয় দলের এই অর্জন উদযাপনে একদিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছিলেন।

তবে নকআউট পর্বে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ‘লা ত্রিকোলর’। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। পরে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। হতাশা নিয়েও নিজের দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বেকাসেসে। তিনি বলেন, ‘ফুটবল এমনই। শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধে আমরা আমাদের পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিফলন দেখাতে পারিনি। জীবনও এমনই, কখনো-কখনো প্রথমার্ধটা ভালো যায় না। তাই এই দুঃখ নিয়েই আমাদের টুর্নামেন্ট শেষ করতে হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আনন্দও আছে, কারণ আমাদের এমন একদল খেলোয়াড় রয়েছে, যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেছে। ভবিষ্যতে এর ফল অবশ্যই মিলবে।’

২০২৪ সালের আগস্টে ইকুয়েডরের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেকাসেসে। তার অধীনে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় স্থান দখল করে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছিল ইকুয়েডর।

দুই বছরেরও বেশি সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে বেকাসেসে বলেন, ‘এটি ছিল আড়াই বছরের একটি যাত্রা, যেখানে আমরা নিরলস পরিশ্রম করেছি এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। সবকিছু করেছি সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে। এই সময়ে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দল ও বিশ্বকাপে অভিষেক করেছে। বাছাইপর্ব এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আমরা দারুণ ফল পেয়েছি। আর বিশ্বকাপে আমাদের গ্রুপ পর্ব ছিল অসাধারণ।’