দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), চট্টগ্রাম বিভাগ।

একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

‘এককালীন দিবি ২ কোটি টাকা, প্রতি মাসে ১০ লাখ’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স বলেন, গত সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রামে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) এর কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলা ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইন্টারনেট বর্তমানে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প-কারখানা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ফলে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

২ কোটি চাঁদা দাবি / ডেভিড ইমন ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর ফোনালাপ, যা জানা গেলো

আইএসপিএবি সরকারের কাছে চট্টগ্রামে ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, দেশের সব আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে আইএসপি শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রয়োজন।

এমআরএএইচ/এমএমকে