ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আগামী সপ্তাহেই হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যকার নতুন নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই নেতা টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলাপেই শিগগির মুখোমুখি বৈঠকের বিষয়ে একমত হন তারা। শনিবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো। নেতানিয়াহু জানেন-আসল বস কে।’ এখানে ‘বস’ বলতে নিজেকেই বুঝিয়েছেন ট্রাম্প। তার এ মন্তব্য দুই নেতার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে একযোগে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। বর্তমানে সেই যুদ্ধ থামানোর নানাবিধ প্রচেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে। এ আবহেই তাদের সম্ভাব্য বৈঠকের খবরটি সামনে এলো। ইরান ইস্যু ও নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়টি ছাড়াও দুই নেতার আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। সেটা হলো-ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ।
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসাবে এ উদ্যোগকে দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সৌদি নেতৃত্ব একাধিকবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পথ নিশ্চিত না হলে তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোবে না।
এদিকে নেতানিয়াহুর এ সফর আগামী সপ্তাহে হওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন ইসরাইলি এক কর্মকর্তা। কারণ, আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটা বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে; সম্ভবত সফরটি তার পরের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে এবং তারা খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসাবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আর এই কারণেই নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এর আগে জুনের মাঝামাঝি সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানকে ঘিরে চলমান আলোচনা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি বৈঠক চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু।








