কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বা প্রকৃত শারীরিক অক্ষমতার কারণে রুকু ও সিজদা আদায় করতে না পারেন, তাহলে তিনি ইশারায় নামাজ পড়বেন। দাঁড়াতে ও বসতে পারলে দাঁড়িয়ে ও বসে রুকু-সিজদা ইশারায় আদায় করবেন। পুরোপুরি শয্যাশায়ী হলে শুয়েই ইশারায় নামাজ পড়বেন।

দাঁড়াতে ও বসতে পারলে ইশারায় নামাজ পড়ার নিয়ম

আপনি যদি রুকু-সিজদা করতে অক্ষম হন, কিন্তু দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন, তাহলে আপনাকে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘কিয়াম’। তাই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সক্ষমতা থাকার পরও বসে নামাজ পড়া যাবে না।

দাঁড়াতে পারলে ইশারায় নামাজ কীভাবে আদায় করবেন তা ধাপে ধাপে বলছি:

  • দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করুন এবং সুরা ফাতেহা পড়ুন ও সুরা মেলান।
  • তারপর দাঁড়ানো অবস্থায়ই আল্লাহু আকবার বলে মাথা ঝোঁকান এবং রুকুর তাসবিহ পড়ুন। রুকু শেষ হলে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা সোজা করুন এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন।
  • তারপর আল্লাহু আকবার বলে বসে পড়ুন, সিজদার জন্য মাথা ঝোঁকান এবং সিজদার তাসবিহ পড়ুন। প্রথম সিজদা শেষ হলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা সোজা করুন। তারপর একই নিয়মে দ্বিতীয় সিজদা আদায় করুন।
  • দুই সিজদা আদায় শেষ হলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান এবং এই নিয়মে বাকি নামাজ আদায় করুন।
  • প্রথম বৈঠক ও শেষ বৈঠক যথা নিয়মে বসে আদায় করবেন।

আপনি যদি দাঁড়াতে অক্ষম হন কিন্তু বসতে সক্ষম হন, সিজদা আদায় করতে সক্ষম হন, তাহলে বসে নামাজ শুরু করবেন, বসা অবস্থায় মাথা ঝুঁকিয়ে রুকু আদায় করবেন, সিজদা যথা নিয়মে আদায় করবেন। আর যদি সিজদা করতে অক্ষম হন, তাহলে বসে মাথা কিছুটা ঝুঁকিয়ে রুকু, আরেকটু বেশি ঝুঁকিয়ে সিজদা আদায় করবেন।

শুয়ে ইশারায় নামাজ পড়ার নিয়ম

কেউ যদি শোয়া থেকে উঠতে না পারেন, তাহলে তিনি কিবলার দিকে পা দিয়ে শুয়ে ইশারায় নামাজ আদায় করবেন।

শুয়ে ইশারায় কীভাবে নামাজ আদায় করবেন তা ধাপে ধাপে বলছি:

  • কিবলার দিকে পা দিয়ে শোয়া অবস্থায় আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধুন। সুরা ফাতেহা পড়ুন ও সুরা মেলান।
  • তারপর আল্লাহু আকবার বলে যতটুকুই পারেন মাথা ঝুঁকিয়ে রুকুতে যান, রুকুর তাসবিহ পড়ুন, রুকু শেষ হলে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা সোজা করুন এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন।
  • তারপর আল্লাহু আকবার বলে যতটুকুই পারেন কিছুটা মাথা ঝুঁকিয়ে সিজদায় যাবেন, সিজদার তাসবিহ পড়বেন, আল্লাহু আকবার বলে মাথা সোজা করবেন, আবার সিজদায় যাবেন, সিজদার তাসবিহ পড়বেন, আল্লাহু আকবার বলে মাথা সোজা করবেন। সম্ভব হলে রুকুর চেয়ে সিজদার জন্য মাথা কিছুটা বেশি ঝোঁকাবেন।
  • দুই সিজদা আদায় করা শেষ হলে আবার মাথা সোজা করে দ্বিতীয় রাকাত শুরু করবেন এবং এই নিয়মেই বাকি নামাজ আদায় করবেন।
  • প্রথম বৈঠক, শেষ বৈঠক, কওমা ও কিয়াম অর্থাৎ নামাজের বসা ও দাঁড়ানো অবস্থায় আপনি একইভাবে সোজা হয়ে শুয়ে আদায় করবেন। সেজন্য আলাদা ইশারার প্রয়োজন নেই।

কাবার দিকে পা দেওয়া কি অপছন্দনীয় নয়?

কাবা শরিফের দিকে পা প্রসারিত করে শোয়া স্বাভাবিক অবস্থায় অপছন্দনীয়। কিন্তু নামাজের জন্য অপারগ বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির কাবার দিকে পা প্রসারিত করে শোয়া অপছন্দনীয় নয়।

ওএফএফ