শেষ বাঁশির পরও কিছু মুহূর্ত রয়ে যায় অমলিন। নরওয়ের বিপক্ষে উসমান দেম্বেলের রাতটা ছিল তেমনই। যাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, আবার হতাশাও ছিল গভীর। সেই দেম্বেলেই এবার বিশ্বকাপের আলোয় দাঁড়িয়ে লিখলেন নিজের নতুন পরিচয়। প্রথমার্ধেই ম্যাচটাকে নিজের করে নেন তিনি। ইতিহাসে জায়গা করে নেন মাত্র ৩২ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় তার হ্যাটট্রিক। এই কীর্তি গড়তে গিয়ে দেম্বেলে পেছনে ফেলেন প্রায় চার দশক ধরে আলোচিত গ্যারি লিনেকারের বিশ্বকাপ রেকর্ড। পুরুষ বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসাবে নিজের নাম তুলে দেন নতুন উচ্চতায়।

গোলের দরজা খুলেই দেম্বেলে করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে তিনি জায়গা করে নিলেন জাঁ ফঁতে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। ১৯৯৭ সালের ১৫ মে ফ্রান্সের ভারন শহরে জন্ম উসমান দেম্বেলের। শৈশব ছিল সাধারণ। তারকাখ্যাতি নয়, ছিল শুধু ফুটবলের প্রতি একরাশ টান। ছোটবেলায় মাঠ মানেই ছিল স্বাধীনতা। বল পায়ে দৌড়ানো মানেই ছিল নিজের পৃথিবী বানিয়ে নেওয়া।

তার মা ফাতিমাতা দেম্বেলের শিকড় মৌরিতানিয়া ও সেনেগালে। বাবা মালিয়ান বংশোদ্ভূত। পরিবার ফ্রান্সে স্থায়ী হয়। ছোটবেলায় অনুশীলনে যাওয়া, নিয়ম মেনে চলা, জীবনযাপনে শৃঙ্খলা-সবকিছুতেই ছিল মায়ের ভূমিকা। দেম্বেলের প্রতিভা যেমন জন্মগত, তেমনই চরিত্র গঠনে মায়ের অবদান ছিল অসাধারণ। দেম্বেলে একবার বলেছিলেন, তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি পরিবার। মাঠে মানুষ যে দেম্বেলেকে দেখে, তার পেছনে মায়ের নীরব ত্যাগ লুকিয়ে আছে। ফরাসি ফুটবলের বয়সভিত্তিক ধাপ পেরিয়ে সুযোগ আসে স্তাদ রেনে। এরপর জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। তার গতি, ড্রিবল আর আক্রমণের ধার তৈরি করার ক্ষমতা বড় ক্লাবগুলোর দরজা খুলে দেয়। বার্সেলোনায় ঠিকানা হয়। খেলার সঙ্গে শুরু হয় অন্য এক লড়াই। চোট। একবার নয়, বারবার। সমালোচনা, হতাশায় তিনি থামেননি। ফিরে এসেছেন। প্রতিবার নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। পিএসজিতে গিয়ে আরও পরিণত হন। জাতীয় দলের পথও কম দীর্ঘ নয়। ২০১৬ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে যাত্রা শুরু। ২০১৮ বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হলেও গোল পাননি। ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ফাইনালে উঠলেও আলোটা পুরোপুরি তার দিকে ছিল না। এবার সেনেগালের বিপক্ষেও খুব উজ্জ্বল ছিলেন না। ইরাকের বিপক্ষে করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল। তৃতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ইতিহাস।