চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬-এর নিয়োগ ফলাফল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই চেয়ারম্যান হলেন নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম এবং কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব। দুজনই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গত ২৪ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং তা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও এ-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬-এর স্বেচ্ছাসেবক ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্য দেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দুই চেয়ারম্যানের এ আচরণ দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাঁদের নিজ নিজ পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব। তিনি বলেন, ‘নোটিশ পেয়েছি। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ জবাব দেব।’
নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান নাচোল উপজেলা পরিষদের ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগের সময় আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। আজ সকালে নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’
এর আগে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে নাচোল পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। নেতা-কর্মীরা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ করেন। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








