সারা দেশে মাদ্রাসার অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার আগেই ইউটিউবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ভোলার লালমোহনে সোমবার অষ্টম শ্রেণির আকাইদ ও ফিকহ, নবম শ্রেণির আরবি প্রথম পত্র, দশম শ্রেণির হাদিস শরিফসহ বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্ন কয়েক দিন আগে থেকেই ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। পরীক্ষার দিন প্রশ্নের সঙ্গে ইউটিউবে প্রকাশিত প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে বলেও দাবি তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ মাদ্রাসা বিভিন্ন গাইড বই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এসব কোম্পানি গাইড বই সরবরাহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে প্রশ্নপত্রও দিয়ে থাকে। লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় আল ফাতাহ কোম্পানির গাইড বই ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দারসুন, ইমতেহান, লেকচার ও পাঞ্জেরিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাদ্রাসায় প্রশ্ন সরবরাহ করে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারেছিনের উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে বিভিন্ন গাইড কোম্পানির সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোর সমন্বয় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কিছু প্রশ্ন ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা জমিয়াতুল মোদারেছিনের সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, গাইড কোম্পানিগুলো একাধিক সেটের প্রশ্ন তৈরি করে। কোনটি ইউটিউবে প্রকাশ হয়, তা তাদের জানা নেই। পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রস্তুত করা হয়। লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, ইউটিউবে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে-এ বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তবে অনেক মাদ্রাসা নিজস্ব প্রশ্ন তৈরি ও মুদ্রণের ব্যয় এড়াতে বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে থাকে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।