জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করতে এসে গ্রেফতার হওয়া চার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। এ আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল গাফফার হিমেল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হবে।
রিমান্ড আবেদন করা চার আসামি হলেন টাঙ্গাইলের আব্দুল আলিম, সিরাজগঞ্জের আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের মাসুদ ফকির।
আরও পড়ুন
এক পাসপোর্টে দুই যাত্রা, প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার চাকরিতে যোগদানের জন্য তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। তবে মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবির সঙ্গে তাদের চেহারার অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি তাদের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তাদের আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যথাক্রমে ২ হাজার ৭৮৪ জন এবং ২৩ হাজার ৭০৯ জন আবেদন করেন। অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৩১৮ জন। সেখান থেকে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
আরও পড়ুন
ফুটবল খেলা দেখতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে মারধর, স্বামী গ্রেফতার
গত ২৪, ২৫ ও ২৮ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রত্যেক প্রার্থীর প্রবেশপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের ছবি সংরক্ষণ করে মন্ত্রণালয়। পরে ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের দিন পরিচয় যাচাইয়ের সময় চারজনের চেহারার সঙ্গে ভাইভা পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবির অমিল ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
এমডিএএ/এসএইচএস








