সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি।

এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন
ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও পলিসিলিকন শিল্প–সম্পর্কিত নির্বাহী আদেশে সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট ২০২৬

গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়।

এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল।

এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো।

ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার দিন (৩০ জুন) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা

অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

স্টিফেন মিলার, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফএ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প চাইলেই কি কংগ্রেসকে দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন পাল্টে দিতে পারবেন