পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর দেশটিতে ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানের ফলে চলতি বছরে নিবন্ধিত ব্লাসফেমি মামলা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
গত মাসে করাচিতে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর শত শত মানুষ তাদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্ভাব্য বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে সক্ষম হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সাংহার আলী মালিক জানান, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় উগ্রবাদী সংগঠনগুলো জনতাকে উসকে দিত। কিন্তু এবার সেই প্রভাবশালী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি ছিল না।
তিনি বলেন, উত্তেজিত জনতাকে তিনি কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝান যে, কোনো ধর্মই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনতা শান্ত হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং পুলিশ তদন্ত করবে—এই আশ্বাসে পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর চারটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তত্ত্বাবধানে এই দমন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সেনাপ্রধান মুনিরের ব্যক্তিগত সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করেন।
এ ছাড়া আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতিও এই নীতিগত পরিবর্তনের একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় ইসলামাবাদের মিত্র হিসেবে বিবেচিত তালেবানও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কঠোর শাস্তি দিয়ে থাকে।
সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আসিম মুনিরের বিশ্বাস, কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বজায় রেখে পাকিস্তানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সূত্রটি বলেন, মুনিরের অবস্থান পরিষ্কার—এই ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলো এবং একটি অগ্রসরমান পাকিস্তান একসঙ্গে চলতে পারে না।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম








